আপনার কম্পিউটারে ঠিক কতোটুকু র‍্যাম – RAM – দরকার আপনার এবং কেন?

No Comments

RAM – র‍্যাম নিয়ে বাংলাদেশে খুব কমন একটা তত্ব হলো, যতো বেশি র‍্যাম, ততো বেশি পারফর্মেন্স। কথাটা এক দিক দিয়ে সত্য হলেও, এর পেছনে আরও অনেক গুলো ফ্যাক্টর আছে। স্রেফ গাদা গাদা র‍্যাম যোগ করলেই যে আপনার কম্পিউটার লাইটস্পিড পারফর্মেন্স দেবে, এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। অনেকেই অনেক বেশি র‍্যাম যোগ করার পরেও অভিযোগ করেন যে পর্যাপ্ত পরিমাণ এর স্পিড পাচ্ছেন না। পাবার কথাও না, কারণ RAM একা সব কিছু করে না।

fvfyzpig

RAMRandom Access Memory is a form of computer data storage. A random-access memory device allows data items to be accessed (read or written) in almost the same amount of time irrespective of the physical location of data inside the memory. In contrast, with other direct-access data storage media such as hard disks, CD-RWs, DVD-RWs and the older drum memory, the time required to read and write data items varies significantly depending on their physical locations on the recording medium, due to mechanical limitations such as media rotation speeds and arm movement.

র‍্যাম – RAM এবং সাধারণ স্টোরেজ মিডিয়াম এর মধ্যে পার্থক্য হল, র‍্যাম এর ডাটা ষ্টোর হয়না। যেই মূহূর্তে র‍্যাম থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, র‍্যাম এর মধ্যে থাকা সমস্ত ডাটা মুছে যায়। হার্ডড্রাইভ এ যেমন ডাটা রাখলে আপনি সেটা না মোছা পর্যন্ত কিন্তু কোন দূর্ঘটনায় মুছে না যাওয়া পর্যন্ত থেকে যায়, র‍্যাম এর ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো। র‍্যাম এর ট্রান্সফার স্পিড এই কারণেই অনেক বেশি। কিন্তু র‍্যাম এর মেমরির সাইজ এর ওপর সব ডিপেন্ড করে না। র‍্যামের বাস স্পিড এবং ভোল্টেজ এখানে অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। একই বাস স্পিড এর DDR2 র‍্যাম এর চেয়ে DDR3 র‍্যাম অবশ্যই ভালো পারফর্মেন্স দেবে । আবার একি ভোল্টেজ এর বেশি বাস স্পিড ওয়ালা র‍্যাম বেশি পারফর্মেন্স দেবে কারণ বাস স্পিড বেশি। এখানে অপটিমাইজেশন এর একটা ব্যাপার আছে। অপটিমাইজেশন কে আমরা ফিনিশিং হিসেবে ধরতে পারি।

তাপ

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এর জন্য হিট একটা ঝামেলার বিষয়। বেশি উতপ্ত হলে পারফর্মেন্স কমে যাবে, আর বিপদসীমা অতিক্রম করলে ফিজিক্যাল ড্যামেজ হতে পারে। র‍্যামের ক্ষেত্রেও এই কারণে হিট একটা ক্রিটিক্যাল ফ্যাক্টর। এই কারণে র‍্যামের পারফর্মেন্স ধরে রাখার জন্য এক্সট্রা হিট সিংক যোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভোল্টেজ কমিয়ে দেওয়া হয় হিট হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য। এই ধরনের অপটিমাইজেশন সব র‍্যামে থাকে না। খুব কমদামী র‍্যাম গুলোতে ঠিকভাবে অপটিমাইজ না করে মার্কেটে ছেড়ে দেওয়া হয় দাম কমানোর জন্য, ফলে এর পারফর্মেন্স কমে যায়।

উপরের ছবিটা হিট সিংক ছাড়া একটা র‍্যাম দেখতে পাচ্ছেন। ভালো ব্র্যান্ডের র‍্যাম হলে হিট সিংক ছাড়া অনেক ভালো পারফর্মেন্স দেবে কারণ এর অপটিমাইজেশন অনেক ভালো। হিট সিংক সহ র‍্যাম কেনার সুবিধে হল, এর ওপরে আপনি কিছু এক্সট্রা চাপ দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন কারণ হিট সিংক বেশ খানিকটা তাপ ডিভাইস থেকে সরাতে সাহায্য করবে।

ধরন

র‍্যাম এর ধরন বলতে এর DDR টাইপ এর কথা বোঝানো হয় সাধারণত। এ নিয়ে বেশি আলোচনার কিছু নেই, ২০০৭ এর পরে যদি কেনা হয় আপনার কম্পিউটার এবং কেনার সময় যদি আপনি পুরাতন হার্ডওয়্যার না কিনে থাকেন, তাহলে আপনার কম্পিউটার এর র‍্যাম এর টাইপ DDR 3 । এর আগের হলে DDR2। তবে ইন্টেল এর নতুন স্কাইলেক প্রসেসর DDR4 সাপোর্ট করে। তবে DDR4 এখনো আমজনতার কাছে পৌছায়নি। যারা 6th জেনারেশন এর প্রসেসর ব্যবহার করেন, শুধু তারাই DDR4 এর সুবিধে পাবেন। তবে র‍্যাম কেনার আগে অবশ্যই একবার চেক করে নেবেন আপনার মাদারবোর্ড কোন ধরন এর র‍্যাম সাপোর্ট করে। DDR3 এখনো মার্কেট ষ্ট্যান্ডার্ড।

বাস স্পীড

বাস স্পিড খুব গুরুত্বপুর্ন। আপনার যদি একাধিক র‍্যাম থাকে, যেমন ৪ গিগাবাইট এর দুইটা র‍্যাম, তাহলে দুইটার বাস স্পিড ম্যাচ করা একান্ত জরুরী। এই কারণে র‍্যাম কেনার আগে চেক করে নিন আপনার আগের র‍্যাম এর বাস স্পীড কতো। কারণ যদি নতুন র‍্যাম এর বাস স্পিড বেশি হয়, তাহলে কোন লাভ হবে না কারণ আপনার কম্পিউটার নতুন র‍্যামকেও আগের র‍্যাম এর বাস স্পিডে রান করবে। এবং সেই ক্ষেত্রে সিস্টেম ক্র্যাশ করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোম্পানি বা প্রোভাইডার

একই স্পিড , ভোল্টেজ এবং বাস স্পিড এর র‍্যাম হলে দুইটা র‍্যাম আলাদা কোম্পানির হলেও তেমন কিছু আসে যায় না। তবে অপটিমাইজেশন একেক কোম্পানি একেক ভাবে করে। তাই বেষ্ট হলো একই কোম্পানির র‍্যাম কেনা।

একাধিক র‍্যাম – RAM

অনেকেই একটা ৮ গিগাবাইট এর র‍্যাম কিনতে চান, অনেকেই আবার দুইটা ৪ গিগাবাইট এর র‍্যাম কেনার পরামর্শ দেন। এখানে বলে রাখা ভালো, এই দুইটা পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য খুব কম। ডুয়েল চ্যানেল এর সুবিধে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুইটা ৪ গিগাবাইট এর র‍্যাম নেওয়া ভালো, কিন্তু তাতে করে আপনি ভবিষ্যৎ এ র‍্যাম বাড়াতে গেলে সমস্যায় পড়বেন কারণ র‍্যাম এর স্লট এর অভাব।

 

যাই হোক, এবার কাজের কথায় আসি। আপনি এতদূর পড়ে অনেকটাই বোর হয়ে গেছেন যে কাজের কথা বাদ দিয়ে কেন র‍্যাম এর ঠিকুজি কুষ্টী নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। কারণটা হল, এই বেসিকগুলো আগে থেকে ক্লিয়ার করা দরকার, নতুবা অনেকেই পরের অংশটুকুর মাজেজা বুঝবেন না।

আপনার ঠিক কতোটুকু র‍্যাম দরকার এটা ডিপেন্ড করে আপনি কি করবেন তার ওপরে। আপনি যদি গেমার হন, তাহলে র‍্যাম বেশি হওয়াটা আপনার অ্যাডভান্টেজ হিসাবে কাজ করবে। গেম গুলো এখন বেশ ভারী হয়, ফলে র‍্যাম বেশী থাকা মানে অনেক বেশি ডাটা একসাথে র‍্যামে নেওয়া যায়। ফলে বার বার হার্ডড্রাইভ থেকে ডাটা নেওয়ার ঝামেলা কমে যায়। তবে এখানে গ্রাফিক্স কার্ড খুব গুরুত্বপুর্ন।

আপনি যদি ভিডিও বা সাউন্ড এডিটিং করেন, এ ক্ষেত্রেও আপনার র‍্যাম বেশি হওয়া দরকার। তবে এখানেও গ্রাফিক্স কার্ড খুব গুরুত্বপুর্ন।

আপনি যদি সাধারণ ইউজার হন, মানে ব্রাউজিং করেন, টুকটাক লেখালেখি করেন, মুভি দেখেন, তাহলে খুব বেশি র‍্যাম দরকার নেই আপনার। ৪ গিগাবাইট এই ক্ষেত্রে এক ধরনের ষ্ট্যান্ডার্ড বাংলাদেশে। তবে ৮ গিগাবাইট নিতে পারেন, এতে করে ব্রাউজিং এ খানিকটা সুবিধে পাবেন। আজকালকার ব্রাউজার গুলো অনেক বেশি র‍্যাম খরচ করে।

তবে র‍্যাম এর ক্ষেত্রে ষ্টার্টার প্যাক হিসাবে ৪ গিগাবাইট নিতে পারেন। এরপর চালিয়ে দেখুন যে আপনার র‍্যাম শেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা। ট্যাক্স ম্যানেজার এ যদি দেখেন পুরো র‍্যাম খরচ হচ্ছে না, তাহলে নতুন র‍্যাম নেওয়ার দরকার নেই। র‍্যাম যদি পুরোটাই খরচ হয়ে যায়, তবেই শুধুমাত্র নতুন র‍্যাম নিয়ে সুবিধে পাবেন। নতুবা নতুন র‍্যাম নিয়ে কোন লাভ হবে না।

শেষ করার আগে যেটা বলে রাখা খুব গুরত্বপুর্ন সেটা হলো, যদিও বা খরচ একটু বেশি হয়, তবুও ব্র্যান্ডের র‍্যাম নেওয়ার সুবিধে আছে। ব্র্যান্ডের র‍্যামের অপটিমাইজেশন সাধারণ র‍্যাম এর চেয়ে অনেক ভালো। তাই যদি খরচ করার সুযোগ থাকে, তাহলে ভালো ব্র্যান্ড যেমন Corsair, G.Skill, Crucial / Micron, Kingston, Samsung এর র‍্যাম নেওয়া ভালো।


প্রযুক্তিকে ভালোবেসেই মূলত ব্লগইন এ আসা। তবে সব সময় আমি শখের বসেই তথ্য প্রযুক্তিকে সবার সাথে শেয়ার করার জন্য নিরালস চেষ্টা করে যাই। আমার দীর্ঘ বিশ্বাস আপনাদের কাজে লাগার মতোন কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করে যাবো।

You might like also

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.