বর্তমান সময়ের কম মূল্যের কিছু সেরা অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব

No Comments

হাই-এন্ড ট্যাবলেটগুলো অ্যান্ড্রয়েড জগতে ‘স্টারের’ আসনে বসে থাকলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মন জয় কিন্তু সবসময়ই বাজেট ট্যাবলেটগুলোই করে থাকে। কেননা, প্রযুক্তিগত দিক থেকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলো ক্রমেই উন্নতির দিকে এগিয়ে গেলেও কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় সেরকম ভাবে বাড়ছেনা, ফলশ্রুতিতে স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানুষগুলোকে ব্যবহার করতে হচ্ছে বাজেট ট্যাব বা স্মার্টফোন। তবে বাজেট ট্যাব বা স্মার্টফোন যে ফেলনা কিছু নয় তা বোঝা যায় সেগুলোর স্পেসিফিকেশন এবং পারফর্মেন্স দেখেই। তাই, বর্তমানের এমন কিছু ট্যাব সম্পর্কে আমি আজ ছোট্ট করে লিখতে চাই যেগুলো কম মূল্যের হলেও অসাধারণ ডিভাইস হিসেবেই একই সাথে প্রযুক্তিবোদ্ধা, প্রযুক্তিপ্রেমী এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে পরিচিত। চলুন তাহলে, শুরু করা যাক।

এনভিডিয়া শিল্ড ট্যাবলেট কে১ 

আপনি কি মূল এনভিডিয়া শিল্ড ট্যাবলেটটির সাথে পরিচিত? যদি হয়ে থাকেন তবে মূল শিল্ড ট্যাবলেট এবং এই ট্যাবলেটটিতে আপনি খুব বেশি একটা পার্থক্য খুঁজে পাবেন না। কেননা, ট্যাবলেট দুটির ডিজাইন এবং স্পেসিফিকেশন প্রায় একই রকম। শুধুমাত্র, এই ট্যাবলেটটির পেছনের অংশে যুক্ত করা হয়েছে চমৎকার একটি রাবারাইজড সার্ফেস এবং ব্রাশড মেটল লেটারিং।

 

এছাড়াও এনভিডিয়া এই ট্যাবলেটটিতে মূল ভার্সনটির মত স্টাইলাশ হোল্ডারটি যুক্ত করেনি যার ফলে অনেকের কাছেই এটি একটি ড্র-ব্যাক বলে মনে হতে পারে। আর যেহেতু স্টাইলাশটি আর নেই সেহেতু চার্জিং ক্যাবল এবং ওয়াল অ্যাডাপ্টারও রাখা হয়নি এতে। তবে এগুলো সবই করা হয়েছে আরও খরচ কমানোর জন্য। আর খরচ কমানোর পরেই এই ট্যাবলেটটি আপনি বর্তমানে পেতে পারেন মাত্র ২০০ ডলারের মধ্যেই যা এই ট্যাবলেটটিকে সহজেই সেরা বাজেট ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে তালিকার প্রথমে উঠিয়ে এনেছে।

স্পেসিফিকেশন – 

  • ৮.০ ইঞ্চি এলসিডি ডিসপ্লে (১৯২০x১২০০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ২৮৩ পিপিআই)।
  • ২.২ গিগাহার্জ কোয়াড কোর এনভিডিয়া টেগ্রা কে১ প্রসেসর।
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ১৬ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট।
  • ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.১.১।

 

নেক্সাস ৭ (২০১৩)

সময়ের হিসেবে নেক্সাস ৭ বেশ পুরাতন একটি ডিভাইস হলেও এখনও এটি এর স্পেসিফিকেশন এবং মূল্যের কারণে সেরা বাজেট ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে একটি।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি নেক্সাস ৭ ডিভাইসটি কিনলে এখনও অন্তত আগামী দু’বছর গুগলের লেটেস্ট ভার্সনগুলোর আপডেট পেতে থাকবেন। বর্তমানে গুগলের এই ডিভাইসটিতে রয়েছে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো যা খুবই স্মুথলি চলে ডিভাইসটিতে। অবশ্য না চলারও কোন কারণ নেই কেননা ডিভাইসটিতে রয়েছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং একটি স্ন্যাপড্রাগন এস৪ প্রো প্রসেসর! তবে হ্যাঁ, যদি বর্তমানের ভারী কিছু হাই গ্রাফিক্স ইন্টেন্সিভ গেম খেলতে চান তবে ট্যাবলেটটির বয়সের ভার তখন হয়ত আপনি একটুআধটু বুঝতে পারবেন।

ডিভাইসটি একটি কমপ্যাক্ট এবং বেশ লাইট একটি ডিভাইস। আর আপনি অনেক অনলাইন শপেই ডিভাইসটি ১০০ ডলারের ভেতরেই পেয়ে যাবেন তবে অ্যামাজন থেকে এই ডিভাইসটি যদি কিনতে চান তবে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ১৪০ ডলারের মত।

 

স্পেসিফিকেশন –

  • ৭.০ ইঞ্চি এলসিডি আইপিএস ডিসপ্লে (১৯২০x১২০০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ৩২৩ পিপিআই)।
  • ১.৫ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এস৪ প্রো প্রসেসর।
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ১৬/৩২ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট নেই।
  • ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ১.২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৬.০।
  • নন-রিমোভ্যাল ৩৯৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।

 

আসুস জেনপ্যাড এস ৮.০

আসুসের পূর্বের বাজেট সিরিজ মেমো প্যাড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের লাইন-আপ করার সময় আসুস প্রায় একই মূল্যে প্রযুক্তি বাজারে তাদের এই নতুন ট্যাবলেটটি উন্মোচন করে যা পূর্বের ডিভাইসগুলো থেকেও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বেশ কিছুটা শক্তিশালী।

নতুন এই আসুস জেনপ্যাড এস ৮.০ ডিভাইসটিতে আপনি পাবেন একটি ৮-ইঞ্চি আকারের আইপিএস এলসিডি স্ক্রিন এবং ১.৮ গিগাহার্জ গতি বিশিষ্ট একটি কোয়াড-কোর ইন্টেল অ্যাটম জেড৩৫৬০ প্রসেসর। পাশাপাশি মাল্টিটাস্কিং এর জন্য থাকছে ২গিগাবাইট র‍্যামও। আর এত সব কিছু যখন আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৯৯ ডলারের মধ্যেই তাহলে অবশ্যই আমরা ট্যাবলেটটিকে একটি অন্যতম সেরা বাজেট ট্যাব বলতেই পারি, কি বলেন?

স্পেসিফিকেশন – 

  • ৮.০ ইঞ্চি এলসিডি আইপিএস ডিসপ্লে (২০৪৮x১৫৩৬ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ৩২০ পিপিআই)।
  • ১.৮ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর ইন্টেল অ্যাটম জেড৩৫৬০ প্রসেসর।
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ১৬/৩২/৬৪ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট।
  • ৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.০।

 

এলজি জি প্যাড ২ ৮.০ (এলজিভি৪৯৮) 

আপনি যদি আরও কিছুটা টাকা বাঁচাতে চান তবে এলজির এই ট্যাবলেটটি আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। ট্যাবলেটটিতে আপনি পাবেন একটি বড় ৮ ইঞ্চি আকারের স্ক্রিন, একটি স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, পর্যাপ্ত অন-বোর্ড স্টোরেজ এমনকি বেশ ভালো পরিমাণের র‍্যামও। এমনকি ডিভাইসটি একচার্জে বেশ ভালো সময় ধরে ব্যাক-আপও দিয়ে থাকে।

স্বীকার করছি যে স্পেসিফিকেশনের উপর ভিত্তি করে হয়তো বাজেট ট্যাবলেটগুলোর মধ্যে সবচাইতে ক্যাপাবল ডিভাইস নয় তবে ১৫০ডলারের এই ডিভাইসটি সব দিক থেকে বিবেচনায় একটি চমৎকার বাজেট ট্যাবলেট অবশ্যই।

স্পেসিফিকেশন –

  • ৮.০ ইঞ্চি এলসিডি আইপিএস ডিসপ্লে (১২৮০x৮০০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ১৮৯ পিপিআই)।
  • ১.২ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ প্রসেসর।
  • ১.৫ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ৩২ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট।
  • ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.০।
  • নন-রিমোভ্যাল ৪২০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।

 

এসার আইকনিয়া ট্যাব ৮

যারা স্বল্প মূল্যে ট্যাবলেট কিনতে আগ্রহী তাদের জন্য অন্যতম সেরা পছন্দ হতে পারে এসারের এই আইকনিয়া ট্যাব ৮ ডিভাইসটি। মোটামুটি কম মূল্যেও ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে অসাধারণ স্পেসিফিকেশন। প্রিমিয়াম ডিজাইন এবং  চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটির এই ট্যাবটিতে আরও আছে একটি হাই রেজ্যুলেশন ডিসপ্লে প্যানেল এবং ডুয়াল রিয়ার স্পিকার যার ফলে একটি মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করে আপনি বেশ আনন্দ পাবেন। পাশাপাশি ৪২০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করার ফলে এক চার্জেই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাক-আপ দিতে সক্ষম হবে এই ডিভাইসটি।

স্পেসিফিকেশন –

  • ৮.০ ইঞ্চি এলসিডি আইপিএস ডিসপ্লে (১৯২০x১২০০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ২৮৩ পিপিআই)।
  • ১.৮৬ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর ইন্টেল অ্যাটম জেড৩৭৪৫ প্রসেসর।
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ১৬/৩২ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট।
  • ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৪.৪.২।
  • নন-রিমোভ্যাল ৪৬০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।

 

লেনোভো ট্যাব ২ এ১০ 

লেনোভোর এই ট্যাবটি অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকবে আজকের তালিকায় থাকা অনান্য ট্যাবগুলোর তুলনায়। তালিকায় থাকা ট্যাবলগুলোর মধ্যে এই ডিভাইসটিরই রয়েছে সবচাইতে বড় আকারের ডিসপ্লে ইউনিট! এছাড়াও এতে রয়েছে ডলবি এটিএমওএস থ্রিডি সিনেমা অডিও এনহ্যাঞ্চমেন্টস যা আপনাকে চমৎকার অডিও ডেলিভার করতে সক্ষম।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ক্যামেরাকে কী-ফিচার হিসেবে ধরা হয়ে থাকেনা তবে এই ডিভাইসটিতে আপনি চমৎকার ক্যামেরা ইউনিটিও পাচ্ছেন। তাই, আমার মতে এটি প্রায় ব্যবহারকারীর জন্যেই হতে পারে একটি চমৎকার গ্যাজেট।

স্পেসিফিকেশন –

  • ১০.১ ইঞ্চি এলসিডি আইপিএস ডিসপ্লে (১৯২০x১২০০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন, ২১৮ পিপিআই)।
  • ১.৭ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর মিডিয়াটেক এমটি৮১৬৫ প্রসেসর।
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ১৬ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ, মাইক্রো-এসডি এক্সপ্যানশন স্লট সাপোর্ট।
  • ৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা, ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার।
  • অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.০।
  • নন-রিমোভ্যাল ৭০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।


প্রথম থেকেই হ্যাকিং, রিভিউ, গ্যাজেট, সফটওয়্যার ইত্যাদি সম্পর্কে আমার ব্যাপক আগ্রহ আমায় ব্লগইন জগতে নিয়ে আসে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার সামান্যতম জ্ঞানটুকু সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। বর্তমানে আমি কম্পিউটার সায়েন্স এর উপর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করছি। আমাকে ফেসবুকে পাবেন।

You might like also

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.