অ্যান্ড্রয়েডের ব্লটওয়্যার থেকে যেভাবে মুক্তি পাবেন

No Comments

650x300x5160515194_d5dd15ea6e_o.jpg.pagespeed.gp+jp+jw+pj+js+rj+rp+rw+ri+cp+md.ic_.TRZA0DjHxG

আপনারা নিশ্চয়ই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে কিছু প্রি-ইন্সটলড অ্যাপলিকেশন লক্ষ্য করেছেন যেগুলো আপনার কখনোই কোন কাজে আসবেনা বা সেই প্রি-ইন্সটলড অ্যাপটির বিকল্প আপনি ব্যবহার করে থাকেন। ডিভাইস নির্মানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ডিভাইসের মাঝে বেশ কিছু এরকম অ্যাপলিকেশন ইন্সটল করে থাকে যেগুলোকে আমরা সহজ ভাষায় বলে থাকি ব্লটওয়্যার। এখন যখন আমাদের এই ব্লটওয়্যারগুলো কোন কাজে আসবেনা তখন শুধু শুধু এগুলোকে আমাদের ডিভাইসের র‍্যাম কনসিউম করতে দেয়ার কোন যুক্তিই নেই! আর তাই আজকের টিউটোরিয়ালে আমরা দেখাবো কীভাবে আপনার ডিভাইস থেকে ব্লটওয়্যারগুলো ঝেড়ে ফেলা যায়।

 

আনইন্সটল বনাম, ডিস্যাবল ব্লটওয়্যার!

আমরা এই ব্লটওয়্যারগুলোকে মূলত দু’ভাবে ঝেড়ে ফেলতে পারি, যথা –

  • আমরা এগুলো আনইন্সটল করতে পারি, অথবা
  • আমরা এগুলো ডিস্যাবল করতে পারি!

আপনি বলতে পারেন, যদি আনইন্সটলই করা যায় তবে কেন আমরা ডিস্যাবল করবো? কেননা আনইন্সটল করলে আমাদের কিছু স্টোরেজেও বেঁচে যাবে! হ্যাঁ, কথা সত্যি কিন্তু কিছু কিছু ব্লটওয়্যার আনইন্সটল করে দিলে বেশ কিছুর সমস্যার দেখা দিতে পারে। যেমন ধরুন,

  • ওটিএ আপডেট কাজ নাও করতে পারে
  • সিস্টেমে ইন্সট্যাবিলিটি দেখা যেতে পারে

এই সমস্যাগুলোর কারণে মূলত ডিস্যাবল করাটাই সঠিক বলে আমি মনে করি!

 

যেভাবে ব্লটওয়্যার ডিস্যাবল করবেন 

এর জন্য প্রথমে আপনাকে যেতে হবে অ্যাপ ড্রয়ার থেকে > সেটিংস > অ্যাপস উইন্ডোতে। এরপর আপনি স্ক্রিন সোয়াইপ করে All উইন্ডোটিতে যান।

 

এই উইন্ডোটিতে আপনাকে আপনার ডিভাইসের প্রায় সকল অ্যাপলিকেশনগুলো প্রদর্শন করা হবে। এখান থেকে আপনি যে ব্লটওয়্যারটি ডিস্যাবল করতে চান সেই অ্যাপটি সিলেক্ট করুন, আমি মটোরোলা স্পটলাইট প্লেয়ারটিকে এক্ষেত্রে সিলেক্ট করছি। সিলেক্ট করার পর আপনি ‘Disable’ নামের একটি বাটন দেখতে পাবেন, বাটনটিতে ট্যাপ করুন।

 

 

ট্যাপ করার পর আপনি একটি ওয়ার্নিং মেসেজ দেখতে পাবেন, Ok ট্যাপ করুন।

 

 

ব্যাস! হয়ে গেল! এভাবেই আপনি পরবর্তিতে এখান থেকেই প্রয়োজন হলে এই অ্যাপটি ইন্যাবল করে নিতে পারবেন।

 

তবে সমস্যা হচ্ছে, সব ব্লটওয়্যারগুলো আপনি এভাবে ডিস্যাবল করতে পারবেন না। আর যেগুলো পারবেন না সেগুলোর জন্য আপনাকে ব্যবহার করতে হবে কিছু থার্ড পার্টি টুল এবং সেই থার্ড পার্টি টুলগুলো ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই আপনার ডিভাইসটি রুটেড হতে হবে। আরও একটি মজার কথা হচ্ছে যে থার্ড-পার্টি সেই টুলগুলোতে আপনি ‘ডিস্যাবল’ অপশনটি পাবেন না কেননা ডিস্যাবলের পরিবর্তে সেই অ্যাপগুলোতে ফ্রিজ (Freeze) ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর ফ্রিজ করার পর একটি ফ্রোজেন অ্যাপ আপনার ডিভাইসে থাকলেও সেটি একা একা রান করতে পারবে না ফলে না আপনার ডিভাইসের র‍্যাম বেশি কনজিউম হবে আর না আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি খরচ হবে! এই কাজের জন্য অনেক ধরণের থার্ড-পার্টি অ্যাপ আছে যেগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের অ্যাপগুলোর নাম আমি লিংক সহ লিখে দিচ্ছি।

থার্ড পার্টি টুলস –

উপরের দুটি টুলই বেশ ভালো তবে এরমধ্যে Link2Sd’র মূল কাজ আসলে মেমরি কার্ডকে ফোন স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এই অ্যাপটি দিয়েও খুব সহজভাবে ব্লটওয়্যার ফ্রিজ করতে পারবেন।

 

আনইন্সটল করতে চাই!! 

যদি আপনি একেবারেই একটি বা একাধিক ব্লটওয়্যার আনইন্সটল করতে চান তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি প্রথমে কিছুদিন সেই অ্যাপটিকে ফ্রিজ বা ডিস্যাবল করে রেখে স্মার্টফোন ব্যবহার করে দেখুন। যদি সিস্টেমে আপনার কোন সমস্যা অনুভূত না হয় তবে উপরের দুটি টুলের যে কোন একটি টুল ব্যবহার করে আপনি সহজেই সেই অ্যাপটিকে আনইন্সটল করে দিতে পারবেন।

 


প্রথম থেকেই হ্যাকিং, রিভিউ, গ্যাজেট, সফটওয়্যার ইত্যাদি সম্পর্কে আমার ব্যাপক আগ্রহ আমায় ব্লগইন জগতে নিয়ে আসে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার সামান্যতম জ্ঞানটুকু সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। বর্তমানে আমি কম্পিউটার সায়েন্স এর উপর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করছি। আমাকে ফেসবুকে পাবেন।

You might like also

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.