আপনি যদি একজন Android ব্যাবহার কারি হয়ে থাকেন তাহলে বিপদে পড়ার আগেই আপনার যা জানা উচিৎ !

No Comments

Android_Security_01.png

 

গোটা বিশ্বে মোবাইল ব্যাবহারকারীর একটি বড় অংশই এখন এনরোয়েড ব্যাবহারকারী। আপনি যদি একজন এনরোয়েড ব্যাবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য এই ফিচারটি দুঃসংবাদই হতে পারে। একইসাথে আপনি যে ঝুকির মধ্যে রয়েছেন তার সতর্কবার্তাও। তবে সমাধানও আছে নিজেকে নিরাপদ রাখার, সেটা নিয়েই আজকের আলোচনা ।

নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সাইবার আক্রমণের হুমকিতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত প্রায় সোয়া একশ কোটি স্মার্টফোন। এই নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে হ্যাকাররা বিশেষ পদ্ধতিতে এমএমএস সেবার নামে একটি ছবি বা ভিডিও পাঠিয়েই হ্যাক করে নিতে পারে স্মার্টফোনের সকল তথ্য! এমনও খবরে এখন প্রযুক্তি বিশ্বে চলছে তোলপাড় ।

এমনকি এমএমএসে হাজির হওয়া ওই ছবি বা ভিডিও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী দেখার আগেই হ্যাকিং সম্পন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ওই ছবি বা ভিডিও হ্যাকিং প্রক্রিয়া চালু করে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ডিলিট হয়ে যেতে পারে। ফলে চূড়ান্ত ক্ষতির আগ পর্যন্ত ব্যবহারকারী বুঝতেই পারবে না তার স্মার্টফোন আক্রান্ত হয়েছে।

মার্কিন তথ্য নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিমপেরিয়ামের একদল গবেষক অ্যান্ড্রয়েডের এই নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করে জানিয়েছে, এটিই সম্ভবত এখন পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং এটি ‘অত্যন্ত বিপদজনক’। এই নিরাপত্তা দুর্বলতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় একশ কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে জিমপেরিয়াম।

এদিকে, হ্যাকিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিপজ্জনক একটি ম্যালওয়ার ‘মাজার’ ছড়িয়ে পড়ছে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে। এতে আক্রান্ত ফোনটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ব্যবহারকারীর আর্থিক লেনদেন, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড, এসএমএস ও এমএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের তথ্যও কপি হয়ে চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের সার্ভারে। ম্যালওয়ারটি গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ডেনমার্কে শনাক্ত হয়। ইতিমধ্যে রাশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ কয়েকটি দেশের প্রায় পাঁচ লাখ স্মার্টফোনে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ভুক্তভোগী অনেক বাংলাদেশি ব্যাবহারকারীও জানিয়েছেন এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর ।

এদিকে, গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— তারা নেক্সাস ডিভাইসগুলোর জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। তবে নেক্সাসের বাইরে গ্যালাক্সি এস ৬ এর স্মার্টফোন এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থেকে গেছে।এ বিষয়ে গবেষকেদের পরামর্শ হচ্ছে— অপরিচিত কারও কাছ থেকে ভিডিও এমএমএস পেলে তা খুলবেন না।স্টেজফ্রাইট অ্যাপটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে আক্রমণের আশঙ্কার কথা জানা গেলেও এর সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন এ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সে তথ্য অবশ্য প্রকাশ করেনি জিমপেরিয়াম। তবে, জিমপেরিয়াম দাবি করেছে, সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি মোবাইল ক্যারিয়ার ও স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে তারা।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে মাজারই সবচেয়ে বিপজ্জনক ম্যালওয়ার। অ্যান্ড্রয়েড নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ম্যালওয়ারটি এশিয়ার দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে এ বছরে সারা বিশ্বে অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ভার্জ’ জানিয়েছে, ‘মাজার’ ম্যালওয়ারটি আক্রমণ করছে মূলত এসএমএসের মাধ্যমে। এসএমএসগুলোতে ভিডিও চ্যাটিংয়ের নতুন সফটওয়্যার, নতুন ধরনের জোকস সাইট এমনকি ফটো এডিটিং টুলসের মতো সফটওয়্যার ডাউনলোডের লিঙ্ক পাঠানো হয়। এই লিঙ্কে ক্লিক করামাত্র স্মার্টফোনে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে ‘ম্যালওয়ার বট’ মাজার। এই স্মার্টফোন থেকে ফেসবুক, ই-মেইল ব্যবহার করলে তা থেকে ‘মাজার’ ইনস্টলার যুক্ত লিঙ্ক চলে যায় অন্য ব্যবহারকারীর ফেসবুক ও ই-মেইলে। এভাবে ‘মাজার’ অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার বিস্তারের কাজটি করে।

‘মাজার’ আক্রান্ত স্মার্টফোন কিছুদিনেই মধ্যেই ধীরগতির হয়ে যায়। ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ এমনকি মাইক্রো এসডি কার্ড থেকেও অনেক ডাটা মুছে দিয়ে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করে নেয় মাজার। এ ছাড়া মাজার নিজের তথ্য চুরির স্বার্থে ফোনের সেটিংসেও পরিবর্তন আনে। যেমন অ্যালার্ম সুইচ এবং ফেসবুক ও ই-মেইল নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেওয়া।

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘হেমিডাল সিকিউরিটি’ মাজার রুখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে পরিচিত কিংবা অপরিচিত নম্বর থেকে আসা এসএমএস ও এমএমএসের মাধ্যমে আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করে তা ডিলিট করা। স্মার্টফোনের সিকিউরিটি অপশনে ‘আনসোর্সেস’ বা ‘ইন্সটল ফ্রম আননোন সোর্সেস’ অপশন সব সময় বন্ধ রাখা। গুগল প্লে স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো সফটওয়্যার ডানউনলোড না করা। অপরিচিত উৎস থেকে আসা ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করা। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ম্যালওয়ার প্রতিরোধে ‘প্যাটার্নাল’ সুরক্ষা দেয় এমন একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা।

কিভাবে থাকবেন সুরক্ষিত ?

অ্যান্ড্রয়েড ফোন সুরক্ষিত রাখার ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছি । আশাককরি এই ৫ টি উপায় মনে রাখলে অনেক সুরক্ষিত থাকবেন। আর সবচেয়ে বড় সুরক্ষিত থাকবার উপায় হলো, না বুঝেই কোথাও কোন কিছু ডাউনলোড করা বা কোন অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা।

তবে যদি একান্তই  প্রয়োজন  থাকে এসব করার তাহলে মনে রাখতে নিচের বিষয়গুলো  –

শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করুনঃ এখনকার ফোনগুলি অনেকটাই আপনার PC র ন্যায় কাজ করে। তাই আপনার ফোনটিতও কম্পিউটারের মত যেকোন সময় ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যাবহার করুন শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমি Avast, Kaspersky(Paid), QuickHeal Smartphone Security এই তিনটি ব্যাবহার করার পরামর্শ দেব। তবে হ্যা কখনই কিন্তু একসাথে একটির বেশী অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করবেন না। এতে অনেক সমস্যার সৃস্টি হয়।

কোন অ্যাপ ইন্সটল করার আগে সতর্ক হোনঃ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য রয়েছে অসংখ্য সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন। অনেকসময় ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ফেলেন । এ কারণে বিভিন্ন স্মার্টফোন নিরাপত্তা সংস্থা কোনো অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার আগে এর নির্মাতা ও প্রদানকারী সাইট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ও.এস সর্বদা আপডেট রাখুনঃ আমরা মাঝে মাঝেই নতুন নতুন আপডেট পাই। সেগুলি আসলে পুরোনো ভারসনের ফল্ট গুলো শুধরে দিয়ে আরো উন্নত করার জন্যই বানায় নির্মাতারা। একই সঙ্গে আপনার ফোনটিকে নতুন নতুন ভাইরাসের থেকে রক্ষা করার জন্যও বিশেষভাবে প্রোগ্রাম করে বানানো হয় এই আপডেট গুলি। তাই আপনার ফোনের ও.এস সর্বদা আপডেটেড রাখুন।

সবসময় ডেটার ব্যাকআপ রাখুনঃ যে কোনো সময় নষ্ট, চুরি অথবা হারিয়ে যেতে পারেআপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটি। সে ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে আপনার মূল্যবান ও ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়ে যাবার এবং অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার। এ ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহার করুন ব্যাকআপ। ফলে ফিরে পাবেন আপনার দরকারি তথ্যগুলো। আর যদি আপনার ফোনটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়, তাহলে ‘রিমোট-ওয়াইপ ফিচার’ ব্যবহার করে মুছে ফেলা যাবে ব্যক্তিগত তথ্য। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। সুতরাং ব্যবহার করুন ফিচারটি এবং নিরাপদ রাখুন আপনার ফোন।

এনক্রিপ্ট করে রাখুন সমস্ত ডেটাঃ এনক্রিপশন ব্যবহার করে ফোন ব্যাবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটার নিরাপত্তা বাড়ানো যায় অনেকাংশে। এনক্রিপ্ট করা ডেটাতে প্রবেশ করতে পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় । অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য সেটিংস থেকে সিকিউরিটি অপশন সিলেক্ট করে এনক্রিপ্ট চালু করে নিতে পারেন আপনারা। আমি নিজেও এই ফিচারটা ব্যাবহার করে বিশাল বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।


প্রথম থেকেই হ্যাকিং, রিভিউ, গ্যাজেট, সফটওয়্যার ইত্যাদি সম্পর্কে আমার ব্যাপক আগ্রহ আমায় ব্লগইন জগতে নিয়ে আসে। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার সামান্যতম জ্ঞানটুকু সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। বর্তমানে আমি কম্পিউটার সায়েন্স এর উপর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করছি। আমাকে ফেসবুকে পাবেন।

You might like also

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.