কখন বুঝবেন কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত

0 Comments

Virus Detected

Virus Detected

বর্তমানে যে বিষয়টি কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের বেশি ভাবায় তা হলো ভাইরাস। একটু খেয়াল করলেই নিচের লক্ষণগুলো দেখে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরে নেয়া যেতে পারে কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর তখনই নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

১. পিসির টাস্ক ম্যানেজার ডিজ্যাবল হয়ে থাকলে- এটি বুঝার জন্য Ctrl+Alt+Del চাপ দিন কিংবা টাস্কবারে মাউস রেখে ডান বাটন চাপ দিন। টাস্ক ম্যানেজার উইন্ডোটি না এলে অথবা টাস্ক ম্যানেজার অপশনটি যদি নিষ্ক্রিয় থাকে তবে নিশ্চিত কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত।

২. রেজিস্ট্রি এডিটর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে- এটি বুঝার জন্য স্টার্ট মেনু থেকে রানে গিয়ে regedit লিখে এন্টার দিন। যদি রেজিস্ট্রি এডিটর উইন্ডোটি না আসে তাহলে বুঝতে হবে সেটি ভাইরাসে আক্রান্ত।

৩. কমান্ড প্রমট নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে- এটি বুঝার জন্য রান এ গিয়ে cmd লিখে এন্টার দিন। ভাইরাস আক্রান্ত হলে cmd উইন্ডো আসবে না।

৪. স্টার্ট মেনুতে সার্চ অপশন না থাকলে।

৫. কোনো প্রোগ্রাম চালু নেই অথবা কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড প্রোগ্রাম চালু নেই কিন্তু সিপিইউয়ের ব্যবহার ৫ শতাংশের ওপর দেখালে- এটি বুঝার জন্য Ctrl+Alt+Del চেপে পারফরমেন্স ট্যাবে ক্লিক করুন। এবার উইন্ডোটির একেবারে নিচে স্ট্যাটাস বারে লক্ষ্য করুন।

৬. কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ অথবা পেনড্রাইভে ডাবল ক্লিক করার পর ওপেন না হলে।

৭. কম্পিউটারের ড্রাইভে অথবা পেনড্রাইভে ডান মাউস ক্লিক করলে ওপেন অপশনটি দ্বিতীয় অবস্থানে দেখালে কিংবা প্রথম অপশনটি ভিন্ন ভাষায় দেখালে।

৮. কম্পিউটার যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

৯. কম্পিউটার যদি থেমে থেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিস্টার্ট নেয়। তবে অন্যান্য কারণে যেমন: উইন্ডোজের সিস্টেম ফাইল মিসিং হলে, লো ভোল্টেজ থাকলে রিস্টার্ট নিতে পারে।

১০. খুব বেশি প্রোগ্রাম ইনস্টল নেই অথচ কম্পিউটার ওপেন ও শাটডাউন হতে দীর্ঘ সময় লাগলে।

১১. কম্পিউটারে কোনো প্রোগ্রাম ওপেন করলে, বন্ধ করলে বা অন্য কোনো কমান্ড দিলে তা এক্সিকিউট হতে বেশি সময় নিলে।

১২. ফোল্ডার অপশন না থাকলে- এটি বুঝার জন্য মাই কম্পিউটার ওপেন করে টুলস মেনুতে গিয়ে ফোল্ডার অপশনটি লক্ষ্য করুন।

১৩. Hidden files & folders অপশনটি না থাকলে কিংবা কাজ না করলে- এটি দেখার জন্য মাই কম্পিউটার ওপেন করে টুলস মেনুতে গিয়ে ফোল্ডার অপশনে ক্লিক করুন। এবার View ট্যাবে ক্লিক করে Show hidden files & folders এ ক্লিক করে ওকে করুন। এই ফাংশনটি কাজ করছে কি না তা দেখার জন্য অপশনটিতে আবার আসুন। যদি আগের মতো Do not show hidden files & folders অপশনটিতে টিক চিহ্ন থাকে তাহলে বুঝবেন এটি ভাইরাসে আক্রান্ত।

১৪. কম্পিউটার ওপেন হওয়ার সময় C:windows কিংবা C:my documents উইন্ডোসহ ওপেন হলে।

১৫. তেমন কোনো প্রোগ্রাম ইনস্টল নেই কিন্তু সি ড্রাইভের স্পেস যদি পূর্ণ দেখায়।

১৬. অল্পতে কম্পিউটার ঘন ঘন Hang করলে।

১৭. কোনো মেসেজ যদি নির্দিষ্ট কোনো এন্টিভাইরাস ইনস্টল করতে বলে।

১৮. কোনো ওয়েবসাইটে যেতে গিয়ে অন্য ওয়েবসাইটে চলে গেলে।

১৯. উইন্ডোজ ট্রে নোটিফিকেশন এরিয়াতে কোনো এরর মেসেজ বার বার দেখালে।

২০. এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ইনস্টল হতে না দিলে, এন্টিভাইরাস কাজ না করলে, নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা এন্টিভাইরাসটি নতুন করে রিস্টার্ট করতে না দিলে।

২১. ডেস্কটপে কোনো নতুন আইকন দেখলে যা- আপনি রাখেননি কিংবা ইনস্টল করা প্রোগ্রামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

২২. কেউ কোনো ফাইল বা ফোল্ডার হিডেন করেনি অথচ আপনি তা খুঁজে পাচ্ছেন না অথচ ডিস্ক স্পেস ঠিক দেখাচ্ছে।

২৩. কম্পিউটার ওপেন হওয়ার সময় লগ ইন অপশন আসে কিন্তু লগ ইন করলে কম্পিউটার ওপেন হয় না।

২৪. কম্পিউটার ওপেন হয়ে ডেক্সটপ আসে কিন্তু মাউস ও কীবোর্ড কাজ করে না।

এছাড়াও উইন্ডোজ এ অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক অবস্থায় ধরে নেয়া যেতে পারে।

এই ভাইরাসের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে লাইসেন্স করা কোনো এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত পুরো কম্পিউটার স্ক্যান করুন। অথবা লিনাক্সের কোনো ডিস্ট্র যেমন: উবুন্টু, মিন্ট, রেডহ্যাট বা ফ্যাডোরা কোর ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো সম্পূর্ণ ভাইরাস ফ্রি এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়, এগুলোর সিকিউরিটি সিস্টেমও অত্যন্ত চৌকস।


You might like also